ডিগ্রী ৩য় বর্ষ পরীক্ষার টাইম ডিস্টিভিউশন ও গুরুত্বপূর্ন কিছু কথা

#Attention_Everyone

ডিগ্রী ৩য় বর্ষ পরীক্ষার 🕛টাইম ডিস্টিভিউশন ও গুরুত্বপূর্ন কিছু কথাঃ——-

#HOW_TO_MANAGE_TIME_IN_EXAM :

পরীক্ষার সময়ে আপনাকে Time নিয়ে সচেতন হতে হবে। Time management নিয়ে অসচেতন হলে পরীক্ষায় বাঁশ খাবেন । দেখা যাবে পারা প্রশ্ন উত্তর করতে পারেন নাই বা ভাল মত লেখেন নাই।

 

৩ ঘন্টা ৩০ মিনিট= ২১০ মিনিট

৮০ মার্ক = প্রতি মার্কের জন্য ২১০÷৮০=২.৬৩ মিনিট

 

ক-বিভাগ: ১০ মার্ক =২৫ মিনিট

গ-বিভাগ: ৫০ মার্ক = ১৩৫ মিনিট

খ-বিভাগ: ২০ মার্ক = ৫০মিনিট

সুতরাং ২১০ মিনিট কে বিভিন্ন ভাগে ভাগ করে কাজে লাগাবেন । যে প্রশ্ন ভাল করে পারবেন তা তো অতি দ্রুত লিখতে পারবেন। সুতরাং নিজে কিভাবে লিখবেন তা চিন্তা করে নিবেন। প্রশ্ন পেয়ে ৫-১০ মিনিট ভাল মত দেখেও নিতে পারেন বাট সেটার ব্যাকআপ কিন্তুু আপনাকেই দিতে হবে ।

 

>>> প্রশ্ন সাধারনত ৩ধরনের থাকবে।

১) অতি সংক্ষিপ্ত ( ১নম্বরের) : ১২ টা থাকবে ১০ টা দিতে হবে। কেউ অল্প প্রস্তুুতি নিয়ে আশায় থাকবেন না আমি ১০ টা পারবো লিখতে। দেখা যাবে ৭-৮টা পারেন কিন্তু ২-৩টা পারেন না বা ভাল করে লিখতে পারবেন না। এটা নিয়ে মন খারাপ করে বসে থাকবেন না।

যে কয়টা অনেক ভাল পারেন সে কয়টা জটপট লিখে ফেলেন। তারপর কম পারা গুলা লিখেন। দেখবেন নম্বর ভাল আশার সম্ভাবনা থাকে। সিরিয়াল উল্টা পাল্টা হলে সমস্যা নাই অথাৎ ক/ঙ/চ ইত্যাদি লিখলে সমস্যা হবেনা। সাধারনত ২-৩ লাইনের বেশি লিখা ঠিক না। আর কোন কোন প্রশ্ন ১ লাইন ই যথেষ্ট। ২০-২৫ মিনিটে উত্তর দিয়ে দিবেন।কি রকম প্রশ্ন আসে : সংজ্ঞা , এটা কি / ঔইটা কি, acronym, abbreviations, ভাগ/স্তর/পদ্ধতি কয়টা কি কি etc আসে।

 

২) সংক্ষিপ্ত (৪নম্বর) : এটাতে বিভিন্ন ধরনের প্রশ্ন থাকতে পারে যেমন – সংজ্ঞা, ব্যাখ্যা, পার্থক্য, আলোচনা etc । প্রতিটা প্রশ্নে ১০-১২ মিনিটে কাজ সেরে নিবেন।

সংজ্ঞা : এখানে ২-৩ লাইন লিখলে হবে না। প্রথমে উক্ত সংজ্ঞার বিষয় টা কি সেটা ২-৩ লাইন লিখেন। তারপর সংজ্ঞা দেন ২-৩ (নিজেকে মনীষী করবেন না) । সংজ্ঞা লিখার পর ২-৩টা বৈশিষ্ট্য দেব। আর এই বৈশিষ্ট্য গুলা সংজ্ঞা তে লিখছেন । তারপর ফিনিশিং প্রশ্ন ২-২.৫ পেজ হলে যথেষ্ঠ। পার্থক্য : ৭-৮ টা যথেষ্ট হবে। সুন্দর করে পার্থক্যের বিষয়, যদু & মধু লিখবেন ।

 

৩) বড় প্রশ্ন (১০নম্বর): এখানে প্রশ্ন কোনটা দিবেন সেটাও কিন্তুু চিন্তার বিষয়। tricky q গুলো পছন্দ করে দিতে পারলে প্রতি প্রশ্নে ৭-৯ নম্বর আসে। যেমন – পার্থক্য, প্রক্রিয়া, পদক্ষেপ, চক্র, পদ্ধতি etc types question গুলো তে নম্বর বেশি আসে আর তেমন বেগ পেতে হয় না (চিত্র,pie chart etc must) । শুধুমাত্র structure ঠিক রেখে লিখতে হয় ।এটার জন্য ২৫-২৭ মিনিট রেখে কাজ কে control করবেন। আলোচনা কর, ব্যাখ্যা কর etc historical type আজাইরা প্রশ্ন লিখতে গিয়া শহীদ হলেও নম্বর কষ্ট করে ৬-৭ আসে। আর এটা করবেন শুধু জীবন লটকাইয়া গেলে অথাৎ কিছু না পারল বা কমন না পড়লে। নরমালি বড় প্রশ্ন ৪-৫ পেইজ লিখা যায়। আর পার্থক্যে ১১-১৩ টা করে দেয়ার চেষ্টা করবেন। আর পার্থক্য লিখার সময় ডাইরেক্ট পার্থক্যে যাবেন না। হালকা introduction and conclusion দিবেন।

 

☞১০ মার্কের একটি প্রশ্ন লেখার টাইম পাওয়া যাবে ২৭ মিনিট। কে ওই ২৭ মিনিটের বেশি একটা প্রশ্ন লিখবেন না। পারলে ২/৩ মিনিট সেভ করবেন যাতে যেটা ভাল পারেন সেটাতে সেই সময়টা কাজে লাগানো যায়। ১০ মার্কের জন্য এটলিস্ট ৫/৬পৃষ্ঠা লিখার ট্রাই করবেন। তাহলে গড়ে এক পৃষ্ঠা লিখতে ৫ মিনিট পাবেন। কারো হাতের লিখা স্পিড ভাল তারা অবশ্যই বেশি লিখবেন।

 

☞৪ মার্কের একটি প্রশ্ন লেখার টাইম পাওয়া যাবে ১০ মিনিট করে। এখানে ২/২.৫ পৃষ্টা লিখবেন।

 

☞ আবল তাবল লিখে পৃষ্টা বাড়িয়ে কোন লাভ নেই। খাতার পেজেন্টেশন ও হাতের লিখা এবং প্রশ্নের মুল উত্তরটা অল্প কথায় বুঝাতে পারলেও ভাল মার্ক পাবেন। এমন রেকর্ড আছে অতিরিক্ত কাগজ না নিয়েও থিউরিটিকেল একাধিক বিষয়ে A+ পাবার। মূলত স্যাররা প্রথম ১/২ টা প্রশ্ন পড়লেই বুঝতে পারে স্টুডেন্টা কেমন।

☞কোন লিখা ভুল হলে তা এক টানে কেটে দিবেন এমন ভাবে কাটবেন যাতে ওবারাইটিং না হয়।

☞ দ্রুত লিখতে গিয়ে এমন ভাবে লিখা যাবে না যাতে কিছুই বুঝা যায় না। লিখা বুঝা না গেলে স্যার খাতা দেখে বিরক্ত হবে, নম্বরও কম দিবে।

 

☞ খাতার বামে ও উপরে ১ ইঞ্চি মার্জিন করবেন, ডানে ও নিচে ½ ইঞ্চি জায়গা রাখবেন তাহলে দেখতে ভাল লাগবে।

 

☞ একটা প্রশ্ন শেষ করে ওই পৃষ্ঠাতেই কখনই নতুন প্রশ্ন শুরু করবেন না। আর প্রশ্নের নম্বর এমন ভাবে মার্ক করে দিবেন যাতে টিচারের চোখে দ্রুত পরে।

 

☞ প্রতিটি প্রশ্নের উত্তরের সাইজ একই রাখার ট্রাই করবেন যাতে একটা বেশি বড় আবার একটা বেশি ছোট না হয়

☞ এক মার্কও ছাড়া যাবে না, ৫ মার্কে এটা গ্রেড চেঞ্জ হবে সো এই দিকটা অবশ্যই খেয়াল রাখতে হবে।

☞ বিষয়, বিষয় কোড, অতিরিক্ত খাতার নম্বর ঠিকমত লিখবেন।

☞ পরীক্ষার হলে যত কম কথা বলবেন ডানে বামে তাকাবেন ততই ভাল। একবার স্যারদের নজরে পরলে সেই আপনার পরীক্ষার ১২ টা বাজিয়ে দিবে।

 

যারা টাইম মেইন্টেন করে ঠিকমত সব দিতে পারবেন তারাই ভাল করবেন। ২/৩ টা পরীক্ষা টাইম মেইন্টেন করে দিতে পারলে পরের গুলাও টাইম মেইন্টেন করতে পারবেন সহজেই।

 

প্রথমে ক এরপর গ এরপর খ বিভাগ দিলে দেখবেন পরীক্ষায় ভাল মতই সবগুলা প্রশ্ন দিতে পেরেছেন। অনেকেই খ আগে দিতে গিয়ে ভাল করে লিখে সময় নষ্ট করে ফেলে পরে গ বিভাগে সময়ের অভাবে শেষের প্রশ্ন গুলা এতটাই ছোট দিয়ে ফেলে যা খ বিভাগের চেয়েও ছোট হয়ে যায়। তাই টাইম মেন্টেন করা মেইন কাজ ঘড়ি ধরে পরীক্ষা দিতে হবে।

আশা করি সবার কথাগুলা কাজে দিবে।

বিঃদ্রঃ এটা আমার ব্যক্তিগত অভিমত থেকে বলা হল।

 

কিছু কমন প্রশ্ন এবং সেগুলার উত্তর –

১। পরিক্ষার খাতায় কি মার্জিন করবো ?

উত্তর – মার্জিন করতেই হবে এমন কোন কথা নাই । মার্জিন করতে না চাইলে স্কিপ করবেন । এতে করে অনেক সময় বেঁচে যাবে । মার্জিন না করলে নম্বর কাটবে না । তাই এত চিন্তিত হবার দরকার নাই ।

২। মার্জিন করলে কিভাবে করবো ?

উত্তর – মার্জিন করলে সেতা কলম দিয়ে করবেন না । কলম দিয়ে করলে কলমের নিপ ভেঙ্গে যাবে অথবা নিপ থেকে কালি ছড়িয়ে যেতে পারে ।

৩। এক পেজে কয় লাইন লিখবো?

উত্তর – এক পেজে ১২/১৪ লাইনের বেশি বা কম না লিখাই ভালো। অনেকে ১০ লাইনের নিচে লিখেন আবার অনেকে ১৬+ লাইন লিখেন এটা করবেন না।

৪। পয়েন্ট / কোটেশন/সংজ্ঞা ইত্যাদি লিখতে কি কালী ব্যবহার করবো?

উত্তর – আপনি লাল এবং সবুজ I repeat again RED and Green কালী ছাড়া সব রঙ এর কালি ব্যবহার করতে পারবেন ।

> লাল কালী সরকারি কাজে ব্যবহার করেন সরকারি কর্মকর্তারা তাই এটা করা নিষিদ্ধ ।

> সবুজ কালী ব্যবহার করা হয় অডিট করার ক্ষেত্রে অর্থাৎ প্রফেশনাল সিএরা। এটার ব্যবহার করে থাকে ওরা ।

আপনি যদি কালো কালী ছাড়া অন্য কোন কালী ব্যবহার করতে চান তাহলে আপনি – Blue , Sky Blue , Navy Blue , Dark Blue এর বলপেন ব্যবহার করবেন । আপনি যদি জেলপেন ব্যবহার করেন সেটা আপনার হাতের লিখা স্লো করে দিবে । তাই বলপেন ব্যবহার করবেন ।

৫। আমি কালো কালী ছাড়া অন্য কালী ব্যবহার করতে চাইনা । তাই কি করতে পারি পয়েন্ট / কোটেশন লিখার সময় ?

উত্তর – আপনি তাহলে কালো কালী দিয়ে লিখে সেটা আন্ডারলাইন করে দিতে পারেন । পয়েন্ট লিখে সেটার নিচে একটা দাগ কেটে দিবেন ( ডাবল না )

৬। খাটায় স্কেল কি চার পাশে করবো ?

উত্তর – না । এই কাম করাটাও সময় নষ্ট এবং অবিবেচকের বহিঃপ্রকাশ । তাই নিজের সম্পর্কে বিরুপ মনোভাব প্রকাশ পাবে এমন কাজ দিয়ে পরিক্ষা শুরু করবেন না ।

৭। পরিক্ষার খাতায় উপরে পরিক্ষার সন কত লিখবো?

উত্তর – এই একটা জিনিস যেন সবাই প্রতি বছর ভুল করে বা বিব্রতকর অবস্থায় পরে । আপনি ৩য় বর্ষ পরীক্ষা দিচ্ছেন কত সালে সেটা আপনার এডমিট কার্ডে লিখা পাবেন । পরীক্ষা ২০২২ সালে হচ্ছে বলে আবার কেউ ২০২২ সাল লিখে দিয়েন না ভাই । আপনি ২০১৭-১৮ সেশনের হলে আপনার ১ম বর্ষ পরিক্ষার সন – ২০১৮, ২য় বর্ষ – ২০১৯ , ৩য় বর্ষ – ২০২০। অর্থাৎ আপনার ডিগ্রীর পাসিং ইয়ার হবে ২০২০ সাল । তাই ৩য় বর্ষ পরীক্ষার সময় কেউ ২০২২ দিয়া দিয়েন না , সেটা এডমিট দেখে বা প্রশ্ন দেখে তারপর লিখবেন । ভুল করে বকা খাইয়েন না কারণ বুড়া বয়সে বকা খাইলে লজ্জা।

আশা করি , এই ছোট খাটো জিনিসগুলা নিয়ে কোন রকম সমস্যা হবে না আগামিতে।

সবার পরিক্ষা ভালো হোক, সবার জন্য শুভকামনা🤲

 

ফি-আমানিল্লাহ

About Ruma Khatun

আমি একজন সরকারি চাকরিজীবী। আমি শিক্ষার্থীদের জন্য অবসর সময়ে লেখা-লেখি করি। আমি সরকারি বি এল কলেজের সাবেক শিক্ষার্থী।

Check Also

nu

অনার্স প্রফেশনাল ভর্তি ২০২২

Apply Online Here জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের ২০২১-২২ শিক্ষাবর্ষের অনার্স প্রফেশনাল কোর্সসমূহে ভর্তি কার্যক্রমের অনলাইনে প্রাথমিক আবেদনের …

Leave a Reply

Your email address will not be published.