Breaking News

জানেন, ঘূর্ণিঝড় ‘যশ’-এর নামকরণ করেছে কোন দেশ? এর অর্থই বা কী?

জানেন, ঘূর্ণিঝড় ‘যশ’-এর নামকরণ করেছে কোন দেশ? এর অর্থই বা কী?

➤হাইলাইটস

আজ পূর্ব মধ্য বঙ্গোপসাগর ও সংলগ্ন উত্তর আন্দামান সাগরে নিম্নচাপ তৈরির সম্ভাবনা

সোমবার নিম্নচাপ ঘূর্ণিঝড়ে পরিণত হবে
সম্ভবত আগামী বুধবার আছড়ে পড়তে পারে ঘূর্ণিঝড় যশ বা ইয়াস

খুব সহজে নিজ শহরে চাকরি খুঁজতে কর্ম এপস ডাউনলোড করুন!

কর্ম এপস ডাউনলোড লিংক

ঘূর্ণিঝড় তওকতের ধাক্কায় বিপর্যস্ত পশ্চিম ভারত। কিন্তু এই বিপর্যয়ের এক সপ্তাহের মধ্যেই এবার আরও একটি ঘূর্ণিঝড় ধেয়ে আসতে চলেছে। এই ঘূর্ণিঝড়ের নাম ‘যশ’। গতবছর আমফানের পর এবার যশের আগমনের খবরে ইতিমধ্যে ভয়ে আতংকগ্রস্ত ওড়িশা, পশ্চিমবঙ্গের বাসিন্দারা। আবহাওয়া অফিস সূত্রে খবর, উত্তর আন্দামান সাগরে যে নিম্নচাপটি রয়েছে, সেটিই আগামী ২২ মে ঘূর্ণিঝড়ের রূপ নেবে। তারপরই তা স্থলভাগের দিকে ধীরে ধীরে সরতে থাকবে। শেষে ২৬ মে সকালেই ওড়িশা ও পশ্চিমবঙ্গ উপকূলে আছড়ে পড়তে পারে ঘূর্ণিঝড় ‘যশ’ (Yaas)। এই ঘূর্ণিঝড় প্রতিরোধে ইতিমধ্যে একাধিক পদক্ষেপও করেছে প্রশাসন।

কিন্তু কেন এমন নাম ঘূর্ণিঝড়টির? কী এর নামের মানে? আসলে এবারের ঘূর্ণিঝড়ের নামটি রেখেছে ওমান। এই যশ বা ইয়াস শব্দটির মানে হল হতাশা। ভারত, ইরান, মালদ্বীপ, বাংলাদেশ, মায়ানমার, ওমান, পাকিস্তান, কাতার, সৌদি আরব, শ্রীলঙ্কা, থাইল্যান্ড, সংযুক্ত আরব আমিরশাহি, ইয়েমেন- এই ১৩টি দেশ নিয়ে তৈরি কমিটিই ঠিক করেছে নামটি।

আবহবিদদের মতে, সাধারণ মানুষের কাছে ঝড় সম্পর্কে তথ্য পৌঁছে দিতে তার নাম থাকাটা দরকারি। নইলে একই সময় একই সমুদ্রে একাধিক ঝড় থাকলে চিহ্নিত করতে সমস্যা হয়। ঝড় চলে গেলেও একই সমস্যায় পড়েন আবহবিদরা। আন্তর্জাতিক নিয়ম অনুসারে যে মহাসাগরে ঘূর্ণিঝড় তৈরি হয়, তার অববাহিকায় থাকা দেশগুলি নামকরণ করে। চলতি শতকের শুরুর দিকে এই পদ্ধতি চালু হয়। পৃথিবীতে মোট ১১টি সংস্থা নাম ঠিক করে। যদিও কয়েক দশক আগে এসব নিয়ম ছিল না। তখন নানা ঘটনা থেকে ঝড়ের নাম ঠিক হত। কোনও ঝড়ে কোনও জাহাজ ডুবে গেলে সেই জাহাজের নামে হত ঝড়ের নাম।

নিজ শহরে ফ্রিতে চাকুরি খুঁজতে গুগল পরিচালিত কর্ম এপ ইনস্টল করুন!

২০০০ সালে ঝড়ের নামকরণের জন্য নিয়ম বানানো হয়। তাতে ওয়ার্ল্ড মেটেরোলজিক্যাল অর্গানাইজেশন ও ইউনাইডেট নেশনস ইকোনমিক অ্যান্ড সোশ্যাল কমিশন ফর এশিয়ার সদস্য দেশগুলি ঘূর্ণিঝড়ের নামকরণ শুরু করে। এতে থাকা ওই ১৩টি দেশ ১৩টি করে নাম দেয়। অর্থাৎ সবমিলিয়ে ১৬৯টি নাম জমা পড়ে। সেই তালিকা থেকেই ফণী, হুদহুদ, আমফান, নিঃসর্গ, তাওকত প্রভৃতি নামগুলি এসেছে। আর তাওকতের পরের নামটিই হল এই ‘যশ’।

তবে এই যশের পর আরও যে যে ঘূর্ণিঝড়ের নাম ঠিক করা হয়েছে সেগুলি হল – গুলাব (পাকিস্তান), সাহিন (কাতার), জাওয়াদ (সৌদি আরব), অশনি (শ্রীলঙ্কা), সীতরাং (থাইল্যান্ড), মানদৌস (সংযুক্ত আরব আমিরশাহি) এবং মোচা (ইয়েমেন)। এদিকে, সাইক্লোন যশের মোকাবিলা করতে ইতিমধ্যে একাধিক পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে ওড়িশা-পশ্চিমবঙ্গ, দুই রাজ্যের সরকারই। মৎস্যজীবীদের ইতিমধ্যে সমুদ্র থেকে ফেরত আসতে বলা হয়েছে। উপকূলবর্তী এলাকাগুলি থেকে মানুষজনকে সরানোর প্রক্রিয়াও শুরু হয়েছে। তৈরি থাকতে বলা হয়েছে বিপর্যয় মোকাবিলাকারী দলকেও। এছাড়া বাতিল করা হয়েছে পুরকর্মীদের ছুটিও। পাশাপাশি প্রশাসনের তরফ থেকে আরও বেশ কিছু নির্দেশও দেওয়া হয়েছে।

এদিকে, গত কয়েকদিন থেকেই গা জ্বালানি গরমে হিমশিম খাচ্ছেন বঙ্গবাসী। বৃষ্টির দেখা নেই। ভোর হতে না হতেই চড়া রোদে নাজেহাল অবস্থা। আলিপুর আবহাওয়া দফতর সূত্রে জানা যাচ্ছে, ঘূর্ণিঝড়ের প্রভাবে রাজ্যে আগামী মঙ্গলবার থেকে বৃষ্টি শুরু হবে। আলিপুর আবহাওয়া দফতর সূত্রে জানানো হয়েছে, ২৫ মে থেকে রাজ্যের উপকূলবর্তী জেলায় হালকা থেকে মাঝারি বৃষ্টি শুরু হবে। কোথাও কোথাও ভারী বৃষ্টি হতে পারে পরবর্তী সময়ে বৃষ্টির পরিমাণ বাড়বে। বাকি জেলাগুলিতেও বৃষ্টি হবে।

২৩ মে থেকে পূর্ব মধ্য বঙ্গোপসাগর ও আন্দামান সাগরে ঘণ্টায় ৪৫-৬৫ কিমি বেগে ঝোড়ো হাওয়া বইতে পারে। হাওয়ার সর্বোচ্চ বেগ হতে পারে ঘণ্টায় ৬৫ কিমি। ২৩ মে’পর থেকে হাওয়ার বেগ আরও বাড়তে থাকবে। ঘূর্ণিঝড়ের প্রভাবে উত্তাল হতে পারে সমুদ্র। ২৩ মে থেকে সমুদ্রে মৎস্যজীবীদের যেতে নিষেধ করা হয়েছে। যাঁরা মাঝ সমুদ্রে রয়েছেন, তাঁদের ২৩ তারিখ সকালের মধ্যে ফিরে আসার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

About Mehedi Hasan

I am Mehedi Hasan. I love writing and sharing on new articles. Stay with me to get the latest new information.

Check Also

আজ দেখা যাবে বছরের শেষ সুপার মুন

আজ দেখা যাবে বছরের শেষ সুপার মুন Apply Online Here এ বছরের শেষ সুপার মুন …

Leave a Reply

Your email address will not be published.